একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে ফোন পাচ্ছেন যারা

বিএনপি
Share Button

একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে ফোন পাচ্ছেন যারা

ভোটের সামনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। গত ৩ ডিসেম্বর, সোমবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভিডিও কনফারেন্সে রেখে এসব প্রার্থী চূড়ান্ত করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। এরই মধ্যে প্রার্থী হিসেবে যাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে তাদের ফোনে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে যেসব আসন নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে অথবা ত্রুটির কারণে যেসব আসনে মূল প্রার্থী বাদ পড়েছেন, সেখানে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনাসহ সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে ১২টি উপকমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ‌দি‌কে ৫ ডিসেম্বর, বুধবার বিএন‌পি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নেতা‌দের নি‌য়ে বৈঠ‌কে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হ‌বে ব‌লে জোট সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে।

প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, একক প্রার্থী হিসেবে যাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন—নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদীন ফারুক, নোয়াখালী-৩ বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ফেনী-১ রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ জয়নুল আবেদীন, চট্টগ্রাম-১০ আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার-১ হাসিনা আহমেদ, কক্সবাজার-৩ লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ শাহজাহান চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ নাসের রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, কুমিল্লা-১ খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৬ আমিনুর রশীদ ইয়াসিন, চাঁদপুর-৪ এমএ হান্নান, চাঁদপুর-৫ ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, মাদারীপুর-৩ আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, শরীয়তপুর-২ শফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর-৩ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সিলেট-২ তাহমিনা রুশদীর লুনা, পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ অধ্যাপক শাহজাহান, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আবু হেনা, নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, টাঙ্গাইল-৬ গৌতম চক্রবর্তী, জামালপুর-৩ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ময়মনসিংহ-১ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিরাজগঞ্জ-২ রুমানা মাহমুদ, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ, কুষ্টিয়া-৩ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ মেহেদী আহমেদ রুমী, চুয়াডাঙ্গা-১ শামসুজ্জামান দুদু, যশোর-৩ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মাগুরা-২ নিতাই রায় চৌধুরী, নেত্রকোনা-৪ তাহমিনা জামান, কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৬ শরীফুল আলম, মুন্সীগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সীগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান সিনহা, ঢাকা-৩ গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা

খোঁজ ‌নি‌য়ে জানা যায়, নির্বাচন‌কে কেন্দ্র ক‌রে ই‌তোম‌ধ্যে বেশ ক‌য়েক‌টি ক‌মি‌টি গঠন করা হ‌য়ে‌ছে। কমিটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া কমিটি, সোশ্যাল মিডিয়া কমিটি, অর্থ কমিটি, প্রচার কমিটি ইত্যাদি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন ব‌লেন, ‘দুই-তিন‌ দি‌নের ম‌ধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হ‌বে। তা ছাড়া আমরা মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার সময় একজনকে চূড়ান্ত করে বাকিদের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দিয়েছি।’

‘কিছু জায়গায় মূল প্রার্থী সরকারের কৌশলে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে আমাদের জনপ্রিয় নেতা খালেদা জিয়াও রয়েছেন। আশা করি, সবাই তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।’ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বরের আগে ৩০০ আসনে বিএনপি তার একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তকরণের কাজ করেন দলটির সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকের শুরুতে দেখা হয়, যাচাই-বাছাইয়ে কোনো কোনো আসনে মূল প্রার্থী বাদ পড়েছেন এবং তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন আসনে ১৪১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ত‌বে বিএনপির নেতারা বলছেন, এর মধ্যে তাদের মূল প্রার্থী রয়েছেন ৭৫-৮০ জন। বিশেষ করে বগুড়া-৭, ঢাকা-১, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, শরীয়তপুর-১ এবং রংপুর-৫ আসনে এখন তাদের কোনো প্রার্থীই নেই।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, টার্গেট করে বিএনপির ৫০ জনের বেশি জনপ্রিয় সাবেক এমপির মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিলের সার্টিফায়েড কপি এখনো দেওয়া হয়নি। অথচ আপিলের জন্য আজই বুধবার শেষ দিন। এর অর্থ হচ্ছে, সরকারের নির্দেশনায় পরিকল্পিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এ পাঁয়তারা করছেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, যাচাই-বাছাইয়ে মূল প্রার্থী বাতিল হওয়ায় তারা কিছুটা জটিলতায় পড়েছেন। তারা মনে করছেন, সরকার যতই কৌশল করুক, লাভ হবে না। শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় তারা মূল প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিতে সক্ষম হবেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এরই মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সমন্বয়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১১টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। মিডিয়া কমিটির প্রধান করা হয়েছে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের প্রধান তাবিথ আউয়াল। বাকি কমিটিগুলো তৈরির কাজ চলছে।

সূত্রঃ জাগোরন নিউজ ডট কম

Share Button