সেনা প্রধানের মর্যাদা পাচ্ছেন আইজিপি, পুলিশের পোষাকে পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ
Share Button

সেনা প্রধানের মর্যাদা পাচ্ছেন আইজিপি, পুলিশের পোষাকে পরিবর্তন

চার তারকা (ফোর স্টার) জেনারেল অর্থাৎ সেনা প্রধানের সমমর্যাদা পাচ্ছেন পুলিশপ্রধান- আইজিপি। বর্তমানে তিনি থ্রি স্টার জেনারেল বা সেনাবাহিনীর লে. জেনারেল পদমর্যাদার সমতুল্য। এখন র‌্যাংকব্যাজ উন্নীত করে পদটিকে জেনারেলের সমান মর্যাদাসম্পন্ন করা হচ্ছে।পাশাপাশি পুলিশের এসআই থেকে শুরু করে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত র‌্যাংকব্যাজ একধাপ উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সব বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে রোববার আরেকটি বৈঠকের মাধ্যমে র‌্যাংকব্যাজ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া পুলিশের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) যে পোশাক রয়েছে, নিয়মিত পুলিশের জন্যও অনুরূপ পোশাক নির্ধারণ করার চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘র‌্যাংকব্যাজ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা তাদের অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন। এ নিয়ে শিগগিরই একটি বৈঠক আহ্বান করা হবে।’

একধাপ ওপরের র‌্যাংকব্যাজের প্রস্তাব: বর্তমানে এসআই ২টি ফুল, ইন্সপেক্টর ১টি পিপস, এএসপি ২টি পিপস, সিনিয়র এএসপি ৩টি পিপস, অ্যাডিশনাল এএসপি ১টি শাপলা, এসপি ১টি শাপলা ১টি পিপস, অ্যাডিশনাল ডিআইজি ২টি পিপস ১টি শাপলা, ডিআইজি ৩টি পিপস ১টি শাপলা, অ্যাডিশনাল আইজিপি ১টি পিপস ও সোর্ড ও ব্যাটনের সঙ্গে একটি শাপলা প্রতীকের অধিকারী। আইজিপি ২টি পিপস ও সোর্ড ও ব্যাটনের সঙ্গে একটি শাপলা প্রতীক পরিধান করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে উল্লেখিত পদের কর্মকর্তাদের একধাপ ওপরের কর্মকর্তাদের র‌্যাংকব্যাজ পরিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এসআইয়ের র‌্যাংকব্যাজ হবে ইন্সপেক্টরের বর্তমান র‌্যাংকব্যাজ, ইন্সপেক্টরের হবে এএসপির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ, এএসপির হবে সিনিয়র এএসপির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ, সিনিয়র এএসপির হবে অ্যাডিশনাল এসপির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ, এসপির হবে অ্যাডিশনাল ডিআইজির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ, অ্যাডিশনাল ডিআইজির হবে ডিআইজির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ, ডিআইজির হবে অ্যাডিশনাল আইজিপির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ, অ্যাডিশনাল আইজিপির হবে আইজিপির বর্তমানের র‌্যাংকব্যাজ।

আইজিপির র‌্যাংকব্যাজ একধাপ উন্নীত হয়ে হবে চার তারকার জেনারেলের সমান।

পুলিশের প্রস্তাব বিবেচনা করা হলে অতিরিক্ত আইজিপি হবেন সেনাবাহিনীর লে. জেনারেলের, ডিআইজি হবেন মেজর জেনারেলের আর অ্যাডিশনাল ডিআইজি হবেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের সমতুল্য। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠকে মর্যাদা-সংক্রান্ত এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নানা মতামত তুলে ধরা হয়।কারও কারও অভিমত, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে আন্তঃবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিতে পারে। তবে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্মান দেওয়া হলে তারা কাজের ক্ষেত্রে উৎসাহ পাবেন। এতে সমন্বয়হীনতা ঘটার কোনো কারণ নেই।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, র‌্যাংকব্যাজ জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের পুলিশপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় প্রটোকলগত জটিলতা হচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশপ্রধান আরেকটি দেশের পুলিশপ্রধানের সঙ্গে একই মর্যাদায় বসতে পারেন না। স্বাধীনতার আগে প্রাদেশিক (পূর্ব পাকিস্তান) আইজিপি পর্যন্ত পদাধিকারী ক্রস সোর্ড ও ব্যাটনের সঙ্গে একটি স্টার পরিধান করেন।

স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইজিপিকে যথাযথ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ র‌্যাংকব্যাজ পরিধানের অনুমতি দেন। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত আইজিপি র‌্যাংকব্যাজ হিসেবে ক্রস সোর্ড ও ব্যাটনের সঙ্গে একটি শাপলা পরিধান করতেন।১৯৮৩ সালে তৎকালীন সামরিক সরকার আইজিপির র‌্যাংকব্যাজকে একধাপ অবনমিত করে ক্রস সোর্ড ও ব্যাটনের সঙ্গে একটি স্টার পরিধান করতে বাধ্য করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১০ সালে পুলিশের পক্ষ থেকে আইজিপির র‌্যাংকব্যাজ উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলে ২০১২ সালে আইজিপিকে থ্রি স্টার জেনারেলের মর্যাদা দেওয়া হয়।

পুলিশের খাকি পোশাক বদলে গেছে অনেক আগেই। পরে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দুই রঙের পোশাক দেওয়া হয়। তবে, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন ভেদে পোশাকের পার্থক্যও রয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) পোশাক সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙের।

তবে র‌্যাব ছাড়া অন্য সব ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটের পোশাক একই রঙের করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে।২০০৪ সালে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে মহানগরগুলোয় হালকা জলপাই রঙের করা হয়। অন্যদিকে, জেলা পুলিশকে দেওয়া হয় গাঢ় নীল রংয়ের। র‌্যাবের কালো ও এপিবিএনের পোশাক তৈরি করা হয় খাকি, বেগুনি আর নীল রঙের মিশ্রণে। আর এসপিবিএনের পোশাকের জামার রঙ করা হয় ধূসর রঙের। প্যান্টও ভিন্ন ভিন্ন রঙের করা হয়।

বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এসব রঙের পোশাক পরেই দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কিংবা স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) যে পোশাক রয়েছে, সেই পোশাক নিয়মিত পুলিশের জন্যও করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তবে সেটা কবে নাগাদ হবে তা জানা যায়নি।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূএ- bdtimes365.com

Share Button