অসহায়ত্বের আত্মকথন

মতামত
Share Button

অসহায়ত্বের আত্মকথন
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা


এ কথা অনস্বীকার্য, আমাদের দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আমরা বৈশি^ক প্রতিযোগিতায় বেশ পিছিয়ে আছি। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আমাদের নির্বাচন কমিশন। মনে করা হয়, কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন এদেশে গণতন্ত্রকে খাদের কিনারে দাঁড় করিয়েছে এবং বর্তমান কমিশন পূর্বসূরিদের ধারাবাহিকতা মাত্র। সঙ্গত কারণেই এই কমিশনের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে এর কোনোটাই ক্ষমতাসীনেরা ছাড়া কারো কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই প্রতিটি নির্বাচনেই ইসি বা নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জোরালো বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তা আরো ঘনীভূত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আসন্ন নির্বাচনে ‘বিরোধী দলের পরাজয়ের শুধুই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি’ বলে মন্তব্য করে সে বিতর্ককে আরো উসকে দিয়েছেন। কতটা নিশ্চিত হলে ১৭ কোটি মানুষের দেশে এমন বেফাঁস মন্তব্য করা যায় তার একটি খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে একজন নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও তার সহযোগী কমিশনারসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে, বর্তমান কমিশনের অধীনে তার নির্বাচনী অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তার এই ‘জবানবন্দী’তে বর্তমান কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রায় সব নির্বাচনে ইসি এবং সরকারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেছেন।

এই বর্ষীয়ান কমিশনারের আত্মস্বীকৃতিকে কেউ কেউ ‘অসহায়ের আত্মকথন’ বলতে চাচ্ছেন। আসলে অসহায় নন বরং অসহায়ত্ব তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। একজন নির্বাচন কমিশনার দায়িত্বে থেকেই নির্বাচনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মন্তব্য করে বেশ সাহসেরই পরিচয় দিয়েছেন। সাহসীরা কখনো অসহায় হন না বরং প্রায় ক্ষেত্রেই ভাগ্য তাদেরকেই আনুকূল্য দেয়। এ ক্ষেত্রে ভাগ্য তার জন্য আপাতত সুপ্রসন্ন না হলেও তার সাহসী উচ্চারণে দেশ ও জাতি যে উপকৃত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

জনাব তালুকদার তার লিখিত বক্তব্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও অবলীলায় কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে এ দেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার একটি বাস্তবচিত্রই ফুটে উঠেছে। আমরা প্রকৃত অর্থে কতটা গণতন্ত্রমনা, তারও একটা মানদণ্ড উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। বর্তমান ইসির অধীনে কোনো নির্বাচনেই জনমতের পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটেনিÑ সে কথা অবলীলায় বেরিয়ে এসেছে। অথচ জনমতের যথাযথ প্রতিফলন সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জনমত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যেভাবে জনমত সংগঠিত ও প্রকাশিত হয়, তার মাত্রার উপরেই সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে।’ তাই যে সমাজে জনমতের প্রতিফলন নেই, সেখানে সুশাসন সুদূরপরাহত।

মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যে তিক্ত হলেও অনেক সত্য কথা আছে। সত্য এই জন্যই বলা যাচ্ছে যে, তিনি এসব অভিযোগ যাদের উপস্থিতিতে করেছেন ‘আঁতে ঘা’ তাদেরই লাগার কথা। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কেউই ভিন্নমত দেননি বা প্রতিবাদও করেননি। তাদের এই নীরবতায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ‘ব্যাপক অনিয়মের কারণে বরিশাল সিটি নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসারের একটি স্বাক্ষরবিহীন তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক।’ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে উভয় সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ‘ভূতের আছর’টা রীতিমতো সুস্পষ্ট। ইসি নির্বাচন বন্ধের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও সে ভোট ডাকাতির নির্বাচন কেন বন্ধ করা হলো না, আর গাজীপুরের জেলা প্রশাসক কেনই বা প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরবিহীন তালিকা কমিশনে পাঠালেন, সেটা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

তিনি বলেছেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে অনুরোধ জানান। সে নির্বাচনের ‘স্বরূপ সন্ধান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তাকে সমর্পণ করি। অজ্ঞাত কারণে সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এখানেই তো সিইসি আর কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিবেদন কেন আলোর মুখ দেখল না, আর সে অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে কমিশন কেন গেজেট জারি করল, এর উত্তর জাতির কাছে আজও অজানা। তাই সিইসি বা নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে বিশেষ কোন গোষ্ঠীর প্রতিভূ হিসেবে কাজ করেছে কি না সে সন্দেহ অবশ্যই প্রাসঙ্গিক।

মাহবুব তালুকদার আরো বলেছেন, ‘রিটার্নিং অফিসার মৌখিকভাবে বলেছেন, বিরোধী দলের মেয়রপ্রার্থীর কোনো অভিযোগপত্র প্রেরণ করা হলেও পুলিশ অফিস থেকে তা গ্রহণের স্বীকৃতিপত্র দেয়া হতো না। অনেক অনুরোধের পর চিঠি গ্রহণ করা হতো। বিরোধী দলের প্রার্থীদের পুলিশের হয়রানি, গণগ্রেফতার, ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। …রিটার্নিং অফিসার প্রেরিত ১১টি অভিযোগপত্রের মধ্যে মাত্র চারটির উত্তর পাওয়া গেছে, যা অনেকটা দায়সারা গোছের। পুলিশ বাকি সাতটি অভিযোগের কোনো উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।’ এখানে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব ও অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ হওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রমই ঘটেছে। অথচ আসন্ন নির্বাচনে সিইসি কথিত ইতিহাস সৃষ্টির স্বপ্ন দেখছেন। এটা হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

বর্ণিত ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের একাংশ দলবাজির আশ্রয় গ্রহণ করেছে- একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই এমন একটি দলবাজ প্রশাসন দিয়ে দেশে কোনো অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তারই বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে তালুকদারের বক্তব্যে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। মাহবুবের ভাষায়, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর রাতারাতি তাদের পক্ষে নিরপেক্ষ হয়ে যাওয়াটা যুক্তিযুক্ত নয়।’ ফলে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার, দলীয় প্রভাবমুক্ত গণপ্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের দাবিটি আবারও জোরালো ভিত্তি পেয়েছে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তালুকদার বলেছেন, ‘গাজীপুরে নির্বাচনের সময় ইউনিফরমধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ অনেক ব্যক্তিকে বাসা কিংবা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেককে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের একজন ছাড়া পুলিশ অন্যদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। নির্বাচনের পরে দেখা যায়, তাদের অনেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে। গ্রেফতার না করলে তারা কারাগারে গেলেন কিভাবে? এ প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি’।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হলেও সরকারি দলের ফরমায়েসি বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তা শুধু পেশাগত অসদাচারণ নয়, বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধও। কারণ, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অগ-এর মন্তব্য, ‘রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা হবেন সুদক্ষ, পেশাদার, অধীনস্থ কর্মকর্তাÑ যারা স্থায়ীভাবে চাকরি করেন এবং রাজনীতির সাথে যাদের কোনো সংশ্রব নেই।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিতে দেয়া সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করেছেন পূর্বোক্ত নির্বাচন কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেছেন, রিটার্নিং অফিসার তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন, ‘কোনো কোনো বিরোধী প্রার্থীকে পুলিশ কর্তৃক অযাচিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আবার সরকারি দলের প্রার্থীদের আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় পুলিশকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। বিরোধী প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় পুলিশের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।’ কিন্তু রিটার্নিং অফিসারের এই সাহসী উচ্চারণের পরও নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। সেই প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফলকেই নির্বাচন কমিশন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এতদিন এসব অভিযোগ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মুখে শোনা গেছে এবং তা কথার কথা ও পরাজয়ের অন্তর্জ্বালা হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু একজন কর্মরত নির্বাচন কমিশনারের মুখ থেকে এমন রূঢ় বাস্তবতা প্রকাশ পাওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে সরকার, নির্বাচন কমিশন, সিভিল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিরোধী দলের একটি বক্তব্য জনমনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ হচ্ছে, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে এখন। গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক না কেন, প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

আমরা ময়দানের অবস্থাটা বিবেচনায় নেয়ায় শ্রেয় মনে করছি। ইসি সচিবের ‘ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকেরা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন, কোনো কমেন্ট করবেন না বা ইন্টারভিউ দেবেন না’- এমন নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, তা কেউই অস্বীকার করেন না। যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই।

তফসিল ঘোষণার পরও ‘গায়েবি’ মামলার ভিত্তিতে গণগ্রেফতার চলছে। বাদ যাচ্ছে না নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত আছে বলে দাবি করলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। সরকারি দল যথেচ্ছ নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও বিরোধী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পর্যন্ত ঘরছাড়া। তাই বিরোধী দলীয় নেতার নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের দাবির ‘অসারতা’ প্রমাণের দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের। এর যথাযথ জবাব কথামালার ফুলঝুরি দিয়ে সম্ভব নয়; বরং অংশীজনের জন্য খেলার মাঠে সমতা ফিরিয়ে এনে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানই করণীয়।

ক্ষমতাসীনরা বোধহয় জনগণকে আস্থায় নিয়ে রাজনীতি করছেন না। তাই দেশের মানুষও মনে হয় তাদের ওপর অনেকটাই আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। আস্থার সঙ্কটের কারণেই ক্ষমতাসীনেরা ম্যাকিয়াভেলির অনুসরণে জনগণের ওপর ছড়ি ঘোরাতে চাইছেন-এমনটিই মনে করছেন অনেকে। ম্যাকিয়াভেলির ভাষায়, ‘জনগণ যদি সত্যিই উত্তম হতো তাহলে এই উপদেশের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তারা অসৎ এবং আপনার ওপর তারা আস্থাহীন। সুতরাং তাদের ওপর আপনারও বিশ্বাস রাখার দরকার নেই’।

এই সরকার যে জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারছে না, তা ‘অসহায়ত্বের আত্মকথন’ থেকে প্রায় স্পষ্ট। আর ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী ফলাফলের বিষয়ে অগাধ আস্থার ভিত্তিটাও বোধহয় সেখানেই।

smmjoy@gmail.com

নয়াদিগন্ত

Share Button