নবী (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ বাঞ্ছনীয়

ইসলাম
Share Button

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ। এই দিনেই মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করেছেন। এ দিনটি সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার, সূর্যোদয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, সুবেহ সাদিকের সময় মহাকালের এক মহাক্রান্তিলগ্নে নবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। আবার তেষট্টি বছরের এক মহান আদর্শিক জীবন অতিবাহিত করে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ৮ জুন, ১১ হিজরি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ একই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

রবিউল আউয়াল মাস এলে অনেকে মিলাদ মাহফিল ও সিরাত মাহফিল আয়োজন করে থাকেন। কিন্তু রসুলুল্লাহ (সা.) যে আদর্শের সুষমা দিয়ে একটি বর্বর জাতিকে আদর্শ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো ফুটতে থাকা একটি সমাজকে শান্তির সুশীতল ছায়াতলে এনে দিয়েছিলেন; সেই মহান আদর্শে উত্তরণের কোনো চিহ্ন আজ খুঁজে পাওয়া যায় না। মহানবীর আদর্শ অনুসরণ না করে শুধু মিলাদ মাহফিল আর সিরাত মাহফিল আয়োজনে কোনো লাভ নেই। কারণ মহান আল্লাহ রসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে জীবনে ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘হে রসুল! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাক তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহতায়ালা তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। (সুরা : আল-মায়িদা, আয়াত : ৩১)। রসুলুল্লাহ (সা.) চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই একটি শ্রেষ্ঠ জাতি গঠন করেছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেছেন- রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গতা সাধনের জন্য প্রেরিত হয়েছি। (ইবনে মাজা)। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ধারণ করেই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যুগের সর্বোত্তম মানুষ হতে পেরেছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন- রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের মানুষ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগের মানুষ, তারপর তাদের পরবর্তী যুগের মানুষ। (সহিহ বোখারি)।

নবীজীকে প্রকৃতভাবে শ্রদ্ধা করতে হবে। আর প্রকৃত শ্রদ্ধা করার উপায় হচ্ছে তাঁর আনুগত্য করা। তিনি যেমনটি আদেশ করেছেন, তেমনটি করা আর তিনি যা নিষেধ করেছেন তা পরিত্যাগ করা; বিদাত, কল্পকাহিনী এবং পাপাচারের মাধ্যমে তাঁকে সম্মান করতে বলা হয়নি। নবীজীকে (সা.) যারা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেছিলেন, তারা ছিলেন সাহাবিগণ। যেমনটি উরওয়াহ ইবনে মাসউদ কুরাইশদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন- হে লোকসকল! আল্লাহর কসম আমি রাজরাজড়াদের দেখেছি। আমি সিজার, কায়সার এবং নেগাসের দরবারে গিয়েছি, কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমি এমন কোনো রাজা দেখিনি যার সাথীরা তাকে এতটা সম্মান করে, যতটা গভীরভাবে মোহাম্মাদকে (সা.) তাঁর সাথীরা শ্রদ্ধা করে। আল্লাহর শপথ তাঁর কোনো থুথুও মাটিতে পড়ত না, বরং তাঁর সাথীরা হাত দিয়ে ধরে নিতেন এবং তা তাদের চেহারা ও ত্বকে বুলিয়ে নিতেন। যদি তিনি তাদের কোনো আদেশ দেন, তবে তারা সেটা পালন করার জন্য দ্রুতগামী হয়। তাঁর ওজুর সময় তারা ওজুর পানি গ্রহণ করার জন্য প্রায় লড়াই করতে উদ্যত হয়। তিনি কথা বললে তাঁর উপস্থিতিতে তারা তাদের কণ্ঠস্বরকে নিচু করে ফেলে। এবং তারা গভীর শ্রদ্ধাবোধের কারণে তাঁর দিকে সরাসরি তাকিয়েও থাকে না। (বোখারি)।

নবী (সা.)-কে প্রকৃত অনুসরণ হচ্ছে তার আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা। তিনি যা বলেছেন সেই বিষয়গুলো পালন করা। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন- রসুলুল্লা (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি আর তাকে হত্যা করা কুফরি। (বোখারি-মুসলিম)। হজরত আবু জার গিফারি (রা.) বর্ণনা করেছেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির প্রতি ফাসেকি বা কুফরির অপবাদ নিক্ষেপ করে, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার উপযুক্ত না হলে অপবাদ নিক্ষেপকারীর দিকে তার অপবাদ ফিরে আসে। (সহিহ বোখারি)। আমরা কি আজ এসব হাদিসের ওপর আমল করছি?

নবী (সা.) আরো বলেছেন, তোমরা আমার সুন্নত এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নত পালন করবে। আর তা দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করবে। সাবধান! তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে। কারণ প্রত্যেক নব প্রবর্তিত বিষয়ই বিদাত এবং প্রত্যেক বিদাতই ভ্রষ্টতা। (তিরমিজি, অনুচ্ছেদ : সুন্নত গ্রহণ, ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ)।

নবী (সা.)-এর প্রতিটি সুন্নতের অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমে আল্লাহপাক আমাদের সঠিকভাবে নবী (সা.)-এর অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

খবরঃ আমাদের সময়. কম

Share Button