সমস্ত ঘটনাটাই ছিল সুপরিকল্পিত কুটিল ষড়যন্ত্রের পাতানো খেলা।

মতামত
Share Button

সমস্ত ঘটনাটাই ছিল সুপরিকল্পিত
কুটিল ষড়যন্ত্রের পাতানো খেলা।

দুপুর ১২ টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তার বিশ্বস্ত প্রতিনীধি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং হুইপ মীর্জা আজমকে পাঠালেন বিডিআর হেডকোয়ার্টারে সাথে আলোচনা করতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনও প্রায় একইসময়য়ে পিলখানায় পৌঁছে গেলেন তাদের সাথে যোগ দিতে। আলোচনার নাটক শেষে ডি এ ডি তৌহীদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এক প্রতিনিধি দলকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্ন দূতেরা পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে। সেখানে এক উৎসবমুখর আন্তরিক পরিবেশে হাস্যজ্জল প্রধানমন্ত্রী স্বাগতম জানালেন ঘাতকচক্রের প্রতিনিধি দলকে।

চা-নাস্তা পরিবেশনের পর ঘাতকচক্রের নেতা ডি এ ডি তৌহীদ হাতে কেখা একটি মামুলি দাবীনামা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়। এরপর পিলখানার অবস্থা সম্পর্কে কোনও প্রশ্ন না করেই প্রধানমন্ত্রী ঘাতকদের সব দাবী মেনে নিয়ে খুনিদের জন্য একটি সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়ে দেশবাসীকে বিস্মিত করেছিলেন। ঘোষণায় সন্তুষ্ট হয়ে প্রতিনিধি দল বিজয় উল্ল্যাসে বীর দর্পে ফিরে আসে বিডিআর হেডকোয়ার্টারে। তাদের সাথেই ফিরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, নানক এবং মীর্জা আজম।বিডিআর কম্পাউনডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহ গুলোকে সি এম এইচ এ পাঠাতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

কারণটি অতি স্পষ্ট- সহযোদ্ধা অফিসার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিকৃত লাশগুলো দেখার পর সেনানিবাসে যেই দাবানলের সৃষ্টি হতো সেটাকে তাৎক্ষনিক ভাবে কিছুতেই সামাল দেয়া সম্ভব হতো না সরকার প্রধান শেখ হাসিনা কিংবা তার অনুগত সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের পক্ষে। তাই হাসিনার হুকুমেই লাশগুলো বিডিআর চত্তরেই গণ কবর খুঁড়ে মাটি চাপা দেয়া হয়। হত্যাযজ্ঞ এবং প্রধানমন্ত্রীর আচরণ সম্পর্কে ‘রাখ ঢাক’ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়।

সরকার এবং জেনারেল মইনের পক্ষ থেকে কিন্তু তা সত্ত্বেও সেনা সদস্যরা বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে অনেক সত্যই জানতে সক্ষম হন ফলে দেশের সব সেনা নিবাসে ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।এখানে আর একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্ল্যেখ যোগ্য।

বিডিআর এ ঘটা ধিকৃত হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে দেশবাসীকে এবং বিশ্ববাসীকে জানান দেয়ার সর্বপ্রথম উদ্দ্যগ গ্রহন করেছিলেন বেচে থাকা দেশান্তরী এবং দেশে অবস্থানকারী অপ্রকাশিত সেনা পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের সদস্যরা। তাদের সাথে যোগদান করেছিলেন জিবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু নির্ভীক দেশপ্রেমিক সচেতন তরুন তরুণী। ঘটনার পরদিনই সারা দেশে ‘ জাগো দেশবাসী বাচাও বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি লিফলেটের ৫ লক্ষেরও বেশি সারা দেশে বিলি করা হয়েছিল। একই সাথে ফুটেজ সহ একটি সিডির প্রায় ৫০০০ কপি দেশে এবং বিদেশে, বিশেষ করে মিডিয়াতে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই বহিঃর্বিশ্বের প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যমগুলতে এই শ্বেতসন্ত্রাসের ঘটনা বহুলভাবে প্রচারিত হয়েছিল। একিসাথে তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রীর সমীপে একটি স্মারক লিপিও ছাপিয়ে প্রচারের মাধ্যমে তার কাছ থেকে কিছু প্রশ্নের জবাবও দাবী করা হয়েছিল এই হত্যাযজ্ঞের সম্পর্কে। এই প্রচেষ্টাটা অতি সামান্য হলেও সেই প্রতিকুল অবস্থায় কাজটি ছিল দুরহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কাকতলিয়ভাবে খালেদা জিয়ার বিএনপি জোটের তরফ থেকে সেই উদ্দ্যগে কোনও সহানুভুতি, সাহায্য-সহযোগিতা সেই ক্রান্তিকালে চেয়েও পাওয়া যায়নি।

অবস্থা বেগতিক দেখে প্রচলিত সামরিক বিধান অনুযায়ী মৃতদের আনুষ্ঠানিক শেষ ক্রিয়া করতে বাধ্য হয়েছিলেন হাসিনা এবং তার তল্পিবাহক খালেদা জিয়ার নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ। তারিক পিছিয়েদিয়ে সেই অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয় ২রা মার্চ।

সেই অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনের জন্য দেশের সর্ব প্রান্ত থেকে প্রতিটি ইউনিটের কয়েকজন অফিসারকে পাঠানো হয় প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে। ঢাকা সেনা নিবাসে এসে একত্রিত হলেন প্রায় ২০০০ অফিসার। তারা সবাই সেনা প্রধানের নতজানু ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে দাবী জানান, ‘ প্রধানমন্ত্রীকে শেষ ক্রিয়া সম্পাদনের আগেই সেনা নিবাসে এসে সেনা অফিসারদের তার সংকট মকাবেলার এবং আচরণের ব্যখ্যা দিতে হবে এবং তাদের সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

সমবেত অফিসারদের সেই দাবী সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কোনও ক্রমেই উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। তদপরি নক্রিবাজ জেনারেল মইন অতি অসহায় অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে খলাখুলিভাবেই জানায়, তার উপর ক্ষুব্ধ অফিসাররা তাকে নপুংশক সেনাপ্রধান হিসেবে ধিক্কার জানাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীি উত্তেজিত অফিসারদের দাবী যদি না মানেন পরিণতিতে সামরিক বাহিনীতে কোনও বিস্ফোরণ ঘটলে সেই অনলে সরকার পতনই শুধু নয় প্রধানমন্ত্রী সহ তাকেও পুড়ে মরতে হবে। অনুগত বিশ্বাসভাজন সেনাপ্রধানের এই ধরণের বক্তব্য শুনে নেহায়েত প্রানের দায়েই নিতান্ত অপারগ হয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাকুঞ্জে অফিসারদের মুখমুখি হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সেনাকুঞ্জে পৌঁছে হাসিনা তার স্বভাবসিদ্ধ মায়াকান্নার সাথে নাটকীয় স্টাইলে বক্তৃতা শুরু করা মাত্রই মাঝপথে তাকে থামিয়ে দিয়ে পুরো সেনাকুঞ্জ গর্জে ওঠে। ‘মিথ্যেবাদী’, ‘না না’, শ্যেইম এইসব ধিক্কারজনক বাক্যবানে জর্জরিত করা হতে থাকে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে।একিসাথে প্রশ্নবাণে তাকে ঘায়েল করতে থাকেন আবেগপ্লুত ক্ষিপ্ত অফিসাররা। বেহাল অবস্থায় ভীতসন্ত্রস্ত হাসিনার পক্ষে ঐ সমস্ত যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না বিধায় কড়া জেরার তোপের মুখে কাঠগড়ার আসামী হাসিনা বাণবিদ্ধ পাখির মতো কাঁপতে কাঁপতে বারবার ঢোকগিলে আমতা আমতা করতে থাকেন।

ফলে সভায় উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।সেই মহা সংকট থেকে বিড়ম্বিত হাসিনাকে কোনমতে কেটে পরার সুযোগ করে দেয় হাসিনার আস্থাভাজন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন আর তার পদলেহি কয়েকজন অফিসার। বেড়িয়ে জাবার আগে প্রচণ্ড চাপের মুখে তিনি কাতর স্বরে ঘোষণা দেন ঘটনার সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ আইনি তদন্ত করার ব্যবস্থা করবে তার সরকার।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাকুঞ্জে মিডিয়ার উপস্থিতি রোধ করে দেয়া সত্তেও শেখ হাসিনার প্রস্থানের অতি অল্প সময়ের মধ্যেই রুদ্ধদার বৈঠকের কথোপকথনের হুবহু বিবরণের সিডি ক্যাসেট সারা দেশে ছড়িয়ে পরে। একিসাথে বিভিন্ন ওয়েব সাইটেও একই সিডি আপলোড করে দেয়া হয়। ফলে শুধু দেশবাসীই নয় বিশ্ববাসীও জানতে পারে বৈঠকের সার্বিক বৃত্তান্ত।সেনাকুঞ্জের অবস্থা দেখে হাসিনার বদ্ধমূল ধারনা জন্মে যে, দেশের সামরিক বাহিনি বিডিআর সহ অন্যান্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমূহ এবং গোয়েন্দা সংস্থা গুলোকে বিশ্বাস করা চলে না। সঙ্গিন অবস্থায় গদি ও প্রান বাঁচানোর একমাত্র সহায় শক্তিধর ভারত সহ বিদেশী প্রভুদের হস্তক্ষেপ।

বিচিলিত হাসিনা ফিরে এসেই সংসদের জরুরী অধিবেশন তলব করেন। সেই অধিবেশনে তিনি আকুল আবেদন জানান জাতিসংঘ, আমেরিকা, ব্রিটেন ও তার একান্ত আপন রাষ্ট্র ভারতের প্রতি সার্বিক সাহায্য সহযোগিতার আবেদন জানান যাতেকরে অনতিবিলম্বে বিষফরন্মুখ অবস্থা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়। দেশের আভ্যান্তরিন বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপকে যুক্তিসঙ্গত করার জন্য কোনও প্রকার তদন্তের আগেই প্রধানমন্ত্রী সংসদে জোর গলায় বিশ্ববাসীকে জানান দিলেন, এক বিস্ময়কর মনগড়া তথ্য- বিডিআর হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িত রয়েছে মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী এবং বহিরাগত সন্ত্রাসবাদীরা।

গদি সামলানোর জন্য এ ধরনের বালখিল্য বক্তব্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী একিসাথে দ্বার খুলে দিলেন বিদেশীদের আভ্যান্তরিণ বিষয়ে নাকগলানোর বিশেষ করে যেসব শক্তি হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তাদের এজেনডা বাস্তবায়নের লক্ষে।

শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে তাদের স্বার্থে জাতীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে খাল কেটে কুমীর এনে কোনও স্বৈরশাসকের শেষরক্ষা হয়েছে কি কখনো? বিদেশী মুনিবদের উপর নির্ভরশীল হয়ে আমৃত্যুকাল কেউ কি ক্ষমতায় থাকতে পেরেছেন? জনবিচ্ছিন্ন অতি প্রিয় নেতা-নেত্রীদের ও করুন পরিনিতি হয়েছে,

বাংলাদেশেই এর প্রমান বর্তমান,এই প্রশ্নগুলোর পরিষ্কার জবাব হচ্ছে ‘না’। বরং হাসিনার এই ধরনের হটকারী উদ্দ্যগ কাল হয়ে দাঁড়াবে তার জন্য আর জাতিকে দিতে হবে অপূরণীয় খেসারৎ। এ ভাবেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে বার বার।

Tony Bruce

Share Button

Leave a Reply