মাহবুব তালুকদারের প্রস্তাব অসাংবিধানিক: কবিতা খানম

জাতীয়
Share Button

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পাঁচ দফা প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য ও অসাংবিধানিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আরেক কমিশনার কবিতা খানম। তবে একজন সদস্য ভিন্নমত পোষণ করায় কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে— এটা বলার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তিনি। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

গত সোমবার কমিশন সভায় প্রস্তাব উত্থাপন করতে না পেরে সভা বর্জন করেন এবং সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন মাহবুব তালুকদার। এমনকি তার প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না দিতে কবিতা খানমসহ বাকি সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে নোট দেন।

জানতে চাইলে কমিশনার কবিতা বলেন, মাহবুব তালুকদারের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রথম রয়েছে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি, যা নিয়ে আলোচনার সময় এখনও আসেনি। দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেছেন, তফসিলের পর স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে আনতে হবে। এটি সাংবিধানিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। কারণ তা হবে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কবিতা খানম বলেন, কমিশনার মাহবুব সরকারের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাবও দিয়েছেন। কী নিয়ে সংলাপ হবে? রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইতিমধ্যে সংলাপ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যে সময় রয়েছে, তাতে মনে হয় না আবার সংলাপের সময় ইসির হাতে রয়েছে।

সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসি। এখানে সংসদ বহাল থাকবে কি থাকবে না— এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে— এটাই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কমিশন বিব্রত হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, সভা বর্জনের পরে সংবাদ সম্মেলনে আসার ফলে বিব্রতকর অবস্থা তৈরির একটি বার্তা আসছে। কিন্তু কমিশন এমন অনুভব করছে না। কারণ ওই বৈঠকের পরের দিন মাহবুব তালুকদার অন্য একটি সভায় সবার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধিমালায় সংশোধনীর বিষয়টি তুলে ধরে কবিতা খানম বলেন, ভারসাম্য রক্ষায় আচরণবিধিমালার প্রয়োগ সুনিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে। আচরণবিধি না মানলে অব্যশই জবাবদিহিতামূলক প্রেক্ষাপট ইসির পক্ষ থেকে রাখা হবে। ইসির পক্ষ থেকে আচরণবিধির সঠিক প্রয়োগ এবং প্রার্থীদের পক্ষ থেকে যদি তা মেনে চলা না হয়; তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা বহাল রেখে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি-না— জানতে চাইলে কবিতা খানম বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আইন মানতে হবে।

তিনি বলেন, ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) না ইসির কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইসিতে সক্রিয় কোনো আলোচনা হয়নি। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কমিশনের অন্য সদস্যদের বিপরীতে কমিশনার মাহবুব তালুকদারের অবস্থান সম্পর্কে কবিতা খানম বলেন, এর মাধ্যমে কোনো অনৈক্য তৈরি হয়েছে— এটা বলার সুযোগ নেই। নোট অব ডিসেন্ট যে কেউ যে কোনো সময় দিতে পারেন। কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, পাঁচজন কমিশনার মিলেই কমিশন। যে কোনো সদস্য যে কোনো সময় ভিন্নমত দিতেই পারেন। মতবিরোধের কারণে কমিশনে দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে— এটা বলার সুযোগ নেই। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই কমিশনের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে।

খবরঃ সমকাল

Share Button

Leave a Reply