মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

এক্সক্লুসিভ
Share Button

শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে প্রতি বছর শারদ উৎসবে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসেন দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দুর্গা। ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে একবছর পরে মা আসছেন। ধর্মের গ্লানি আর অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুরদের বধ আর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি বছর দুগর্তিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন।

আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার মহাদেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ প্রস্তুতি। মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির কারিগররা দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অনেক মন্দিরে প্রতিমায় ইতোমধ্যে রং তুলির কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ বছর উপজেলায় ১৪৯ টি মণ্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় মোট ১৪৯ টি দুর্গা মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পৌর সদরে ৭টি, হরিঢালীতে ২০ টি, কপিলমুনিতে ১৯ টি, লতায় ১৩ টি, দেলুটিতে ১৪ টি, সোলাদানায় ১০ টি, লস্করে ১৭ টি, গদাইপুরে ৫ টি, রাড়ুলীতে ২০ টি, চাঁদখালীতে ১২ টি এবং গড়ুইখালীতে ১২ টি দূর্গা মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত বারের তুলনায় এবার ৬টি প্রতিমা বেশি হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার মা দুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি বাজবে প্রতিটি মন্ডপগুলিতে। সে কারনে প্রতিটি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির জোর প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে অনেক মণ্ডপের প্রতিমায় রং তুলির কাজ শেষ করে ফেলেছেন ভাস্কাররা। ভাস্কররা এখন দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কাজে। আনন্দ ঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে চলছে কারিগরি শিল্প নৈপুন্য। ভাস্কর কম থাকায় এক একজন ভাস্কর বেশ কয়েকটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।

পাইকগাছা পৌরসভার কেন্দ্রীয় পূজা মন্দির বাতিখালী হরিতলা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌতম মন্ডল জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরীর মূল্য বেশি পড়ছে।

তাছাড়া দ্রব্য মূল্যের দামও একটু বেশি। এদিকে আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলার জনপদে আনন্দের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বৃহৎ এ দুর্গা উৎসব পালনের। ইতোমধ্যে হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে নতুন জামা-কাপড়সহ ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনা-কাটা শুরু করে দিয়েছেন। কেউ আবার অগ্রিম শুভেচ্ছাসহ নিমন্ত্রণ দেয়ার কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বছর উপজেলায় ১৪৯ টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার ৬টি পূজা বেশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পূজা পরিষদের উপজেলা কমিটির সভাপতি সমীরন সাধু জানিয়েছেন, যে সমস্ত মণ্ডপগুলিতে লোক সমাগম বেশি হয় এবং বাজার কেন্দ্রীক সেগুলিকে অতি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত উপজেলার কোন মণ্ডপে অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানিয়েছেন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে এলাকায় পুলিশি টহল আরো জোরদার এবং মণ্ডপগুলোতে নজরদারীর বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে মণ্ডপ পাহারা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিডি২৪লাইভ

Share Button

Leave a Reply