সরকারের জনপ্রিয়তা বোঝার জন্য এই ছবিটাই যথেষ্ঠ!

মতামত
Share Button

সরকারের জনপ্রিয়তা বোঝার জন্য এই ছবিটাই যথেষ্ঠ!

আপনারা শুধু এই শুয়ে থাকা ৫ জন আন্দোলনকারীকেই দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু এর পেছনে থাকা লক্ষ কোটি মানুষের সমর্থন দেখতে পাচ্ছেন না। যেখানে বিরোধী দলের হাজার লোকের মিছিল দেখলেই পুলিশ গুলি ছুড়ে সেখানে পুলিশ কেন এত অল্প সংখ্যক আন্দোলনকারীদের দমন করছে না? এর কারণ হল, এই আন্দোলন গণ আন্দোলন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি খানেক বাংলাদেশী এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে ব্যাপারটাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি জামাতের পোষা এজেন্ট সাংবাদিকদের জন্য এই খবর টিভি ও পত্র পত্রিকায় আসছে না।

এই ৪/৫ টা ছেলে যখন রাস্তা অবরোধ করছিল গাড়ীর ড্রাইভার হেল্পাররা তাতে সমর্থন দিয়ে শাহবাগ দিয়ে না গিয়ে অন্য রোডে গিয়ে এই আন্দোলন সমর্থন করল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রাইভার সেফাতুল্লাহ বলেন “প্রয়োজন হলে আরো মদ খাব, সারাদিন জ্যামে আটকে থাকব তবুও শাহবাগের রাস্তা অবরোধের পক্ষে সমর্থন দিলাম।

ট্রাফিক সার্জেন্ট মতি মিয়া শাহবাগে দিনে ২০০ টি গাড়ির মামলা দিতেন। তিনি আজ মামলা না দিয়ে শাহবাগ গামী গাড়ী আটকান! কারণ তিনি কোটাবিরোধী আন্দোলনের সাথে আছেন।

শাহবাগের ফুলের দোকানদার ইমাম আলী মোল্লা বলেন ” প্রয়োজন হইলে তিন মাসের জন্য দোকানে তালা ঝুলামু, কিছু বেচুম না, না খাইয়া থাকুম, মাগার পোলাপাইনগো এই আন্দোলনের সাথে আছি!”

শাহবাগে তিন চারটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে রোগী যেতে পারছে না, ডাক্তারদের যেতেও কস্ট হচ্ছে। এম্বুলেন্স আটেক যাচ্ছে। কিন্তু কোন রোগীর মুখে কান্না নেই, কস্ট নেই, মনে দুঃখ নেই। সব রোগী চিকিৎসার অভাবে মরতে রাজী কিন্তু তারা আন্দোলনের পক্ষে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিডনী রোগী আবুল মিয়া বলেছেন “দরকার হইলে ডায়ালাইসিস করুম না, চিকিৎসা না কইরাই মইরা যামু কিন্তু ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনের সাথে আছি!”

এদিকে ডেলিভারি কেইসে এম্বুলেন্সে আটকে থাকা অন্তসত্বা মহিলা মিথিলা ফারজানা বলেন “দরকার হলে বাচ্চাকে আরো কিছুদিন ভিত্রে থাকতে বলব। আমার চিকিৎসার দরকার নেই। আমার আগে মুক্তিযোদ্ধা নাতি পুতির কোটার দাবী বেশি গুরুত্বপূর্ণ! সন্তান ছাড়া থাকা যায় কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী মানা ছাড়া থাকা যায় না!”

এছাড়া আম জমতার পক্ষে ট্রাক ড্রাইভার কাল্লু শেখ বলেন “দরকার হইলে আমার মাস্টার্স পাশ পোলারে আমার লাহান ড্রাইভার বানামু, তবুও মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান হইতে দিমু না। সরকারি চাকরি লাগব না।”

ফখরুল ইসলাম

Share Button