রুপিকে ধরে ফেলছে টাকা!

অর্থনীতি
Share Button

রুপিকে ধরে ফেলছে টাকা!

বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ও ভারতীয় মুদ্রা রুপির মান প্রায় সমান হয়ে গেছে। রুপির এই অবমূল্যায়নে ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকার মান। গত এক সপ্তাহে আন্তজার্তিক বাজারে রেকর্ড পরিমান মূল্যপতন হয়েছে ভারতীয় রুপির।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে ১০০ রুপির দাম কমে হয়েছিল ১১৩ টাকা। অতীতে কখনো এতো কম দামে পাওয়া যায়নি রুপি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা শক্তিশালী হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বড় প্রভাব পড়বে না। তবে ভ্রমণ বা চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা বেশি লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন আগের চেয়ে কম টাকা লাগবে। রুপির এ মান কমতে থাকলে এক সময় টাকা আর রুপি সমান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে ডলাদের বিপরীতে মুদ্রাটির মানও কমেছে। ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে কিছুটা সুবিধা হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রপ্তানিতে । অর্থাৎ দেশ থেকে যারা ভারতে পণ্য রপ্তানি করেন তারা কিছুটা প্রতিযোগিতায় পরবে। কারণ রপ্তানি পণ্যের দাম বেড়ে গেলে চাহিদা কমবে।

ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) এক মার্কিন ডলারে বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৬৬ রুপি। চলতি বছরের শুরুতে (১ জানুয়ারি) যা ছিল ৬৩ দশমিক ৮৮ রুপি। এ হিসেবে ১০ মাসের ব্যবধানে রুপির মান কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। বর্তমানে এক ডলারে পাওয়া যাচ্ছে ৭৩ দশমিক ৬৬ রুপি। যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দর।

আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে বেশিরভাগ পণ্য কেনাবেচা হয় ডলারে। ফলে টাকা শক্তিশালী হলে বা রুপির মান কমলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। তবে যারা ভারত ভ্রমণ করবেন কিংবা কাঁচা টাকা বিনিময় করেন তারা লাভবান হবেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচ্যুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী এনএস ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ভারতীয় মুদ্রা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে রুপি। তবে ভারতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী তাই রুপির মান ৬৯-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল হবে।’

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) রুপির উত্থান-পতনের বিষয়টি দেখছে। ফলে মুদ্রা বিনিময় বাজারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন ভেঙ্কটেশ।

৪ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি রুপিতে মান দাঁড়ায় এক টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ১১৩ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে।অন্যদিকে ১০০ রুপিতে মিলেছে ৮৯ টাকা। টাকার বিপরীতে রুপির এ দর এ যাবতকালের সর্বনিম্ন। এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক-আরবিআই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও মার্কিন ডলারের বাড়তি চাহিদার কারণে রুপির এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল সংস্থাগুলোকে বাজার থেকে দশ বিলয়ন মার্কিন ডলার তোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে মুদ্রা আহরণকারী সংস্থাগুলোকেও বিশেষ ছাড় দিয়েছে। শিগগিরই ঋণ নীতিতেও পরিবর্তন আনছে আরবিআই। গত চার বছরের মধ্যে বর্তমানে তেলের দাম সবচে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

bangla.24livenewspaper.com

Share Button