জামায়াত নেতাদের বিরুদ্বে মিথ্যা স্বাক্ষী দেওয়াদের করুন পরিনতি

ফেইসবুক থেকে
Share Button

মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়া আজিজুর রহমান গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়া ২২ জনের ভিতর ৬ জন একই ভাবে মারা গেল! মামলার বাদী সাঈদী সাহেবের রায়ের আগেই জমি নিয়ে দ্বন্দে কুপানী খেয়ে মারা যায়। অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি বানানো জাহানারা ইমামের জীহ্বাতে পচন ধরেছিল। বেচারি চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের বাহিরে মারা যায়।

শহীদ কামারুজ্জামানের বাদীর শরীরে পচন ধরছে এমন একটা ছবি খুব ভাইরাল হয়েছিল অনলাইনে।এরা ছিল ভারচুয়ালের বাহিরের বিরোধী শক্তি। তাই আমাদের অনেকের কাছে এদের পরিচিতি কম। ভারচুয়াল জগতে আব্দুল কাদের মোল্লাকে নিয়ে বাজে স্টাটাস দেওয়া একজনকে চিনতাম। তার নাম তাহমিনা জান্নাত। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে তাহমিনা জান্নাতের মৃত্যু হয়েছিল ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালের রাত ৪টা ১৭ মিনিটে।প্রথমবার ক্যান্সারের অপারেশনে সে তার বাকশক্তি হারিয়েছিলো। দ্বিতীয়বার অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে সে একটি ফেসবুক স্টাটাস দিয়ে যায়। অনেক কথার ভিতর মাঝখানের দিকে সে লেখে-“এই যাত্রায় হয়তো বেঁচে ফিরতে পারবো না। তাই সবার কাছে অনুরোধ যদি কখোনো কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি,অমর্যাদা করে থাকি,কোনো ধরনের খারাপ কথা বলে থাকি তাহলে হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি।

আমাকে ক্ষমা করে দিবেন”লেখার শেষের দিকে সে অনেকের নাম ধরে ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একজন বাদ পড়ে গেছে, তিনি শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা। মজলুম কাদের মোল্লার প্রতি অনেক কটুক্তি, অনেক বিদ্বেষ ছড়িয়েছিলো এই মেয়েটি। দুইটা মৃত্যু, সময়ের ব্যাবধানও বেশি নয়। একজন মাজলুম, দ্বীনের পথে শহীদ। আরেকজন কোন না কোনভাবে কাদের মোল্লার প্রতি জালেম। মৃত্যু হয়েছে ক্যান্সারে। কি বিস্তর ব্যাবধান!এবার দেখুন মোল্লা ভাইয়ের ব্যাপারে তার কটুক্তিতে ভরা লেখা-“আত্ম পরিচয় নিয়ে গভীর সংকটে ভুগছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ও আপীল বিভাগের নির্মম বলি, মেধাবী শিক্ষক ও বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর খানকির পোলায়ে নায়েব কসাই কাদেরের সন্তান বৃন্দ। আর এ জন্য তারা দায়ী করেছেন ক্ষমতাসীন বাকশালের বিদ্রহী সংসদ সদস্য ও কাশিমপুর কারাগারে কাদের মোল্লার ঘনিষ্ঠ সংগী গোলাম ময়লা রনিকে। আজ ঢাকা প্রেস ক্লাবে আয়জিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংকটের কথা জানিয়েছেন কসাই কাদেরের পুত্র জামিল কসাই।

পিতার মৃত্যুতে গভীর শোকে হয়রান জামিল কসাই বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আমার পিতাকে ফাসি দিয়া দিল। কিন্তু এদিকে বাকশালের ফেসিবাদী এমপি গোলাম ময়লা রনি বলতেছে, কারাগারে নাকি আমার পিতা এক রাত্রে ঘনিষ্ঠ আলাপে বলেছেন, কাদের মোল্লা ও কসাই কাদের এক বেক্তি নহে, দুইজনে দুই বেক্তি। তিনি আরও বলেছেন, তিনি গোলাম ময়লা রনিরও আইন বহির্ভুত পিতা ।হু হু করে কেদে উঠে জামিল কসাই বলেন, কাদের মোল্লার অপরাধের দায়ে আমার পিতা কসাই কাদেরকে সরকার ফাসি দিল। আজ আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, কে এই কাদের মোল্লা? আমার পিতা কি কাদের মোল্লা নাকি কসাই কাদের? আমার পিতা কেন গোলাম ময়লা রনিরও পিতা? এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গোলাম ময়লা রনিকে মিটিমিটি হাসতে দেখা যায়। কসাই কাদেরের স্ত্রী সানোয়ারা কসাই এক পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনের ইতি ঘোষনা করে বলেন, বেশী প্রশ্ন করা ঠিক নহে। আল্লাহ হাফেজ। উপস্থিত সাংবাদিকরা এক পর্যায়ে জামিল কসাইয়ের পিতার প্রকৃত পরিচয় জানতে চাইলে সানোয়ারা কসাই সংবাদ সম্মেলন তেগ করে গাড়িতে উঠে বসেন।

কিন্তু সাংবাদিকরা বার বার জামিল কসাইয়ের পিতার সংখ্যা জানতে চাইলে এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে তিনি দুই আঙুল দেখিয়ে হাতের ইশারায় উত্তর দিয়ে প্রেস ক্লাব তেগ করেন”আমার কেন যেন মনে হয়, যারা এই জুলমের সাথে জড়িত, তাদের কারো স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না। এটা আমার কথা নয়, ইতিহাস তার স্বাক্ষী। বাংলার শেষ নবাব সিরাজুদ্দৌলার সাথে বেঈমানী করা ইতিহাস বিখ্যাত নাম গুলোর একজনেরও স্বাভাবিক মরন হয়নিমীর জাফর আলী খান : এই বিশ্বাসঘাতকের স্বপ্ন ছিল সে বাংলা বিহার ঊড়িষ্যার নবাব হবে।

এই ইচ্ছা পূরণ করতে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মীর জাফর। জাফর আলী খান কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়। রোগের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক তান্ত্রিকের পরামর্শে হিন্দু দেবী মূর্তির পা ধুয়া পানি খাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। বেঈমান অবস্থায় মারা যায় এ বিশ্বাসঘাতক।ঘসেটি বেগম: ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজুদ্দৌলার আপন খালা। তার স্বপ্ন ছিল পিতা আলীবর্দী খাঁর ইন্তেকালের পর তিনি হবেন হবেন বাংলার প্রথম মহিলা নবাব। পলাশী’র যুদ্ধের পর মীরজাফরপুত্র মীরন বুঝতে পারে তার পিতার নবাব হবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ঘষেটি বেগম। তাই মীরন চক্রান্ত করে ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে ঘসেটি বেগম’কে হত্যা করে।মীর মীরন : মীর জাফরের পুত্র মীরন।

সে পলাশীর যুদ্ধের আরেক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী। তার নির্দেশেই মোহাম্মাদী বেগ নির্মমভাবে নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে হত্যা করে। মীরনের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে।লর্ড কাইভ : বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির দোর্দণ্ড প্রতাপশালী প্রধান ছিলেন লর্ড কাইভ। তার লুটেরা বাহিনী যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা, ধর্ষণ, সম্পদ-লুটতরাজসহ বিবিধ অপকর্মে লিপ্ত হয়। ব্রিটিশ হউস-অব-কমন্স’এর সদস্যরাও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন গঠন হলে সে নিজে আত্বহত্যা করে অনেকের শিক্ষা নেওয়ার বেশ কিছু উপকরণ আছে এখানে।

ভেবে দেখা দরকার।সবাইকে জানিয়ে দিতে নিউজটি অবশ্যই শেয়ার করুন

Share Button