সিনহাকে দিয়ে ‘জুডিশিয়াল ক্যু’র ষড়যন্ত্রে ছিলেন ড. কামাল

রাজনীতি
Share Button

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দিয়ে ‘জুডিশিয়াল ক্যু’ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবার নাম আমাদের জানা আছে।

এই ষড়যন্ত্রকারীদের নাম জানাতে আইনজীবীদের দাবির মুখে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে আপনারা চিনেন না? এই ড. কামাল হোসেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পক্ষে প্রতিবাদ না করায় বিচারকদের বকাঝকা করেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত্বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শফিউর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাসভায় সংগঠনের আহ্বায়ক ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, শ ম রেজাউল করিম, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, নজিবুল্লাহ হিরু, মোখলেসুর রহমান বাদল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য আপিল বিভাগে অ্যাডহক ভিত্তিতে দুইজন বিচারক নিয়োগের জন্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তা করেননি। অথচ বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিমের স্ত্রীর লাশ আনতে বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছিল তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে। এভাবেই বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছে। অথচ এই মওদুদ আহমদ সাহেব বলে বেড়াচ্ছেন আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের দরকার নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে উন্নত হয়ে যাবে। তাহলে তো উনাদের ঘুম হবে না।

‘সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার প্রতি ড. কামাল হোসেনের সমর্থন’ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারকরা বলেছেন, তাঁরা একটা অনুষ্ঠানে তাঁকে (ড. কামাল হোসেন) ডাকতে গিয়েছিলেন। তখন ড. কামাল হোসেন তাঁদের বকাঝকা করেন। কেন তাঁরা (বিচারপতিরা) প্রতিবাদ করেননি, কেন সিনহাকে সরানো হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মুহূর্তে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, কোটার ব্যাপারে যদি অন্য রকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমি নিশ্চয় দেখব। দরকার হলে কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেব। অথচ এই আন্দোলন যাতে চলমান থাকে, এই আন্দোলনের ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যায় সে জন্য এই কামাল হোসেন, ইউনূস, খালেদা জিয়ার সহযোগীরা এটার মধ্যে নাক গলানো শুরু করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে, তাদের যৌক্তিক দাবি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন। তারা ফিরে গেছে। এর মধ্যেও একটা ষড়যন্ত্র হয়েছে, সরকারকে ফেলে দিতে হবে। সুজনের বদিউল আলম মজুমদারের ঘরে, হাত সুপ্রিম কোর্টেও চলে এসেছে। এখানে মিটিং করে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বারের সভাপতি-সম্পাদকের ঘাড়ে বসে ষড়যন্ত্র…। এগুলো কিসের আলামত। এগুলো হচ্ছে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। এটা প্রতিহত করার সময় এসেছে।

আনিসুল হক বলেন, অনেকেই বলে থাকেন বঙ্গবন্ধুকে ৭১ সালের পরাজিত শক্তি রাজাকার, আলবদররা হত্যা করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল এই আওয়ামী লীগের কিছু কুচক্রী নেতা।

Share Button