কোটা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা জাকিরের এক স্ট্যাটাসে নিন্দার ঝড়

ফেইসবুক থেকে
Share Button

দেশে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন চরমে। শত বাধা, হামলা আর মারধরের শিকার হওয়ার পরও দমানো যাচ্ছে না আন্দোলনকারীদের ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন এর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

তার স্ট্যটাসে যা বলা হয় যে, কোটা সংস্কার আন্দোলন যেসব ছাত্ররা করছে তাদের পেছনে সরকার বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ তাদের বেশিরভাগ ছাত্রই দেশের কোনো কাজে আসছে না। জনগণের কষ্টের টাকায় সরকার এই ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ ছাত্ররা গবেষক হতে পারছে না, পারছে না কোন বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট হতে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রজেক্টে বা কাজে বিদেশি এক্সপার্টদের আনা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতার এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর পরই তার কমেন্টে নিন্দার জড় উঠেছে। ওবায়দুর রহমান নামে একজন লিখেছেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে !!! আজকে শিক্ষকদের উপর হামলা। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ এর শিক্ষকদের উপর!!!! আপনাদের ভূমিকা কি পরিস্কার করুন! না হয় এই হামলায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। জাকির ভাই ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না ’

ইলিয়া হোসাইন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, আপনিও তো ঢাবিতে ১৫,৩০ টাকায় মানুষ হইছেন… তো আপনি গবেষণা করে কি ছিরছেন শুনি…! কপি পেস্ট মারছেন একটা স্টাটাস আর ভাব মারান…! কমেন্ট গুলো পড়লে তো একটা লাশ ও জিন্দা হয়ে উঠতো…’

নাঈম হোসাইন নামে অপর আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘বর্তমান ছাত্রলীগের স্টাটাস দেখে মনে হচ্ছে এরা ভিনগ্রহের বাসিন্দা । উনপঞ্চাশের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এরা না। তোমাদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আফসোস করবে, যারা তাঁকে ভুল বার্তা ও পরিসংখ্যান দিচ্ছ। আর একটা কথা, দেশ আগাবে তখনই যখন সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা হবে। পেটনীতি আর চামচামি বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের স্বরূপে ফেরো ভাই। না হলে আমরা অগ্রজরা লজ্জা পাচ্ছি তোমাদের আচারণে।

ওমর ফারুক নামে একজন কমেন্টস করেছেন, ‘হাতুড়ি র ভয়ে লিখতে হাত অবস হয়ে আসে। তারপরেও সম্মানের সাথেই বলছি, আপনি যে প্রশ্ন করেছেন, একই প্রশ্ন আপনাদের দিকেও। আপনি/আপনারা কেন গবেষক হলে ননা???? বিশ্ববিদ্যালয়ে দা, লাঠি, হাতুড়ি দিয়ে মহড়া সাজিয়ে আর মাদকের অভয়ারণ্য বানিয়ে গবেষক পাওয়ার আশা যৌক্তিক না। আরো অনেক অসংঘতি আছে, ওপেন সিক্রেট বাট বলতে ভয় হয়। যাই হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা কতটুকু করতে পেরেছে সেটাও দেখা উচিত।’

মো. নাজমুল হোসেন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, কেন বের হচ্ছে না জানেন????? যারা আপনাদের মত ছাত্ররাজনীতি করে তাদের জন্যই বের হচ্ছে না প্রকৃত মেধাবী। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার দৌড়ে ক্লাসের 1st হওয়া ছাত্রকে নেওয়া হয় না শুধুমাত্র সে ছাত্ররাজনীতি করত না বলে। আর গবেষণার কথা বলতেছেন, কত টাকা বাজেট করা হয় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে??? সেটা জানেন??? ঠিক টাকা বাজেট করা হয় সেটা ঠিক আমি নিজেও জানি না কিন্তু এটা বলতে পারি যখন আমরা টিচারদের কাছে বড় কোন প্রজেক্ট বা রিসার্চ নিয়ে যেতাম তখন টিচাররা এটা বলত ফান্ড নাই, তুমি এই কাজ মাস্টার্স বা পিএইচডি তে করার ট্রাই করো। আপনি জানেন প্রতি বছর কি পরিমাণ ইঞ্জিনিয়ার বিদেশে চলে যাচ্ছে?? কেনই বা তারা যাচ্ছে??? এর আসল কারণ গবেষণা এর জন্য তারা পযাপ্ত ফান্ড পাই না। তারা স্কলারশিপ নিয়ে চলে যাচ্ছে এবং গবেষণা করছে।’

এস এম জাকির হোসাইনের ভেরিফাইড পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি আমাদের সময় ডট কম এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘যেটা আপনি কখনোই চাননি, দিতে চাইলেও নিতে টালবাহানা করেছেন সেটা না দিতে পারলে কথার বরখেলাপ হয় কিভাবে?

চাইলেন সংস্কার! সরকারের মন্ত্রী একটু সময় চাইলো সময় দিলেন না অরাজকতা করলেন নেত্রী করতে চাইলেন বাতিল মানলেন না সংস্কারই করতে হবে অকে ফাইন বাতিল যেহেতু চান না মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে সংস্কার হবে সংস্কার হবে না সেটা কে বলেছে?

সংস্কারের লক্ষ্যে কমিটি কাজ করছে। তারপরও বেশি লাফালাফি কইরেন না!

সরকার আপনাকে বার্ষিক এক লক্ষ এক হাজার দুইশত আট টাকা সত্তর পয়সা ভর্তুকি দিয়ে পড়ায়। জনগণ ভ্যাট ট্যাক্স শুধু আপনাকে ভর্তুকি দেওয়ার জন্যে দেয় না। দিলেও একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আউটপুট হিসেবে শুধু বিসিএস ক্যাডার চায় না। কয়জন গবেষক হইছেন? কয়জন যার যার বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট হইছেন? অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তুকি ব্যয়ের পেছনে জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল এটি। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা কত ভাগ কতজন পূরণ করতে পেরেছেন?

বেতন দিয়ে জাপান থেকে ইঞ্জিনিয়ার আনা লাগে কেন? দেশের টাকা দিয়ে ভারত থেকে কর্পোরেট ওয়ার্কিং ফোর্স আনা লাগে কেন? ডলার খরচ করে আমেরিকা ইউরোপ থেকে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জন্য কনসাল্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া লাগে কেন?

কয়টা নতুন তত্ব আবিষ্কার করছেন? জনগণ ভ্যাট ট্যাক্সের ভর্তুকি আপনাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়া আর ভিসির বাড়ি ভাঙার জন্য দিচ্ছে?

এটা আপনার অধিকার? লজ্জা হওয়া উচিত আপনাদের! ভাতের খোটা তো দূরে! জনগণের কষ্টের টাকায় পড়াশোনা করে যারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পথে না হেটে, ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুলে শুধু ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ অফিসার হতে চায় ভর্তুকির প্রত্যেকটি পয়সা তাদের পেট থেকে টেনে বের করে আনা উচিত।

সরকারের বহুত ব্যায়ের খাত আছে। সরকার চাইলে সাবসিডি ফিফটি পার্সেন্ট লেস দিয়ে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট কিংবা সোস্যাল সেফটিনেস এর জন্য ব্যয় করতে পারে। ভাত আর সিটের কথায় খুব লাগছে, না?

খুব যদি লেগেই থাকে দেশের জন্য এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি একটা স্মার্ট ওয়ার্কিং ফোর্স। যাতে বাইরে থেকে আনা না লাগে। সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে জনগণের ভর্তুকির টাকার সদ্ব্যবহার করুন।

courtesy মো. নাজমুল হোসাইন’

-এস এম জাকির হোসাইনের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট এবং সমস্ত মতামত সংগ্রহীত।

Share Button