তরিকুলের ভাঙা পায়ে অপারেশন, জোগাড় হয়নি বিল

জাতীয়
Share Button

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতুড়িপেটায় পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়া কোটা আন্দোলনের নেতা তরিকুল ইসলামের পায়ে অপারেশন করা হয়েছে। পায়ের ভাঙা হার রড ও স্ক্র দিয়ে জোড়া দেয়া হয়েছে।

তরিকুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা তার বন্ধু মঞ্জুরুল আলম ঢাকাটাইমসকে জানান, ১১ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে এই অপারেশন করা হয়েছে। আর এখন সেই পায়ে তীব্র ব্যাথা রয়ে গেছে।

‘লাঠির আঘাতে ওর হাতের মাংসগুলো ফুলে আছে। কোথাও কোথাও রক্ত জমাট হয়ে আছে। সেখানে ‘ঘা’ হয়ে গেছে। যেগুলো শোকাতে আরো সময় লাগবে।’

‘মেরুদণ্ড ও কোমর ও পায়ের জন্য থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছে, পা ও হাতের অবস্থার উন্নতি হলে তারপর কোমরের চিকিৎসা শুরু হবে। কারণ সে নড়াচড়া করতে কম পারে।’

গত ২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটুনিতে আহত হওয়ার পর তরিকুলকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর সেখান থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়ার পর মহানগরের বেসরকারি হাসপাতাল রয়্যালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। আর ৮ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আনা হয় ঢাকায়।

সেদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মগবাজারের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তরিকুলকে ভর্তির তথ্য নিশ্চিত করেন এই চিকিৎসালয়ের ভর্তি শাখার কর্মকর্তা হৃদয় মিত্র। কিন্তু পরদিন আবার হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য অস্বীকার করে। আর তরিকুলের পরিবার বা সহপাঠীরাও হাসাপাতালের তথ্য নিশ্চিত করতে চাইছেন না।

তরিকুলকে কোথায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেটা প্রকাশ না করার কারণ জানতে চাইলে ঢাকায় নিয়ে আসার বন্ধু মঞ্জুরুল আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘তাহলে আমাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বের করে দেবার কারণ কি? আমরা কি বড় অপরাধী ছিলাম?’

তরিকুলের বন্ধু বলেন, ‘ওর শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না। যে পা ভেঙে গেছে সেটা ভীষণ ব্যাথা করে। কোমড়ে যে হাতুড়ি পেটা হয়েছিল সেটার কারণে উঠতে বা বসতে পারে না। কোন কিছু খেলে সাথে সাথে বমি করে। ডাক্তাররা বলছে সব কিছু ঠিক হতে এখনও দুই সপ্তাহ লাগবে।’

তবে তরিকুলের কোমড়ের হাড় ভাঙেনি বলে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান তার বন্ধু। বলেন, ‘যেখানে হাতুড়ির আঘাত লেগেছে সেটা নিয়ে এক ডাক্তার বলেছিল ফেঁটে গেছে হাড়। তবে ঢাকায় আসার পর ডাক্তার বলেছে তেমন কোন সমস্যা নেই।’

মঞ্জুরুল জানান, এখন পর্যন্ত তার বন্ধুর চিকিৎসা চলছে দানের টাকায়। কিন্তু তারা আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক টাকার বিয়ষটি এখন দেখাশোনা করছেন। তবে এখনও হাসপাতালের বিল পরিশোধ করা যায়নি।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ, পঞ্চাশ টাকা করে দিচ্ছে তাই দিয়ে চলছে; বিশেষ কেউ দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম দিকে সাপোর্ট দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা আর দেইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ভিসি বা ছাত্র উপদেষ্টারা তো আমাদের অভিভাবক। তারা একবার ফোন দিয়েও জানতে চায়নি তরিকুল কেমন আছে।’

‘ওর পরিবারের অবস্থা তেমন ভালো না, ও কৃষক পরিবারের ছেলে। পরিবারের পক্ষে সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না চিকিৎসার খরচ বহন করা। তাই আমরাও ওর পরিবারকে চাপ দিচ্ছি না। পায়ের অপারেশনে অনেক কিছু দরকার ছিল। ডাক্তাররা টাকা ছাড়া অপারেশন করতে চাইছিল না। পরে আমরা বলেছি অপারেশন করেন আমরা টাকা যেভাবে হোক জোগাড় করব।’

‘হাসপাতালে আমাদের অনেক ডিউ হয়ে গেছে। আমরা বলেছি আমাদের সময় দিতে হবে টাকা পরিশোধে। ওর পায়ের অপারেশনের সব টাকা এখন বাকি আছে। এছাড়া ওর বেশ কিছু ওষুধ বাইরে থেকে আনতে গেলে দেখি অনেক ব্যয়বহুল সেগুলো।’

গত ৩০ জুন ঢাকায় কোটা আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকে পেটানো হয় ছাত্রলীগের জমায়েত থেকে। এর প্রতিবাদে ২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। সে সময় হামলা করে ছাত্রলীগ। আর তরিকুলকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে ধরে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটানো হতে থাকে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন হাতুড়ি দিয়ে পেটান তাকে।

তরিকুলের মতোই গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল ইসলাম। তরিকুলকে যেভাবে চিকিৎসা শেষ না করে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজশাহী মেডিকেল থেকে ছুটি দেয়া হয়েছিল, তেমনি নুরকেও ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকাটাইমস

Share Button