ঈদে জমজমাট আ’লীগের নির্বাচনী প্রচারণা

জাতীয়, রাজনীতি
Share Button

পাঁচ মাস পরেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচারণা। ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে পুরো দেশে। মুসলিমদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ‍ফিতর এতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ভোটার ও ভোটপ্রার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে উৎসবের সেতুবন্ধন। সরাসরি ভোট না চাইলেও যাকাতের কাপড়, ঈদ সামগ্রীসহ বিশেষ গিফট নিয়ে প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন ধর্মীয় এই উৎসবে। একে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা।

জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে পুরো রমজানে নির্বাচনী এলাকা চষে বেরিয়েছেন ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের নেতারা। কেউ ‍শুক্র-শনিবার, কেউবা আবার পুরো সপ্তাহেই সময় দিয়েছেন এলাকায়। শুনেছেন নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের কথা।

ক্ষেত্রভেদে ঈদ উপলক্ষে যাকাতের কাপড়, ঈদ সামগ্রী ও ঈদ বোনাস নিয়ে তাদের মাঝে হাজির হয়েছেন নেতারা। কখনো ইফতারে, কখনো সেহরিতে বা মধ্য দুপুরেও হয়েছে এই রাজনীতির মিলনমেলা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের নেতারা ঈদের আগের সময়টায় অবস্থান করছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বেশ এগিয়ে। কারণ স্থানীয় এমপিরা এই সুযোগ বেশি কাজে লাগাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তিনি গত এক সপ্তাহ তার নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠি-২ এ অবস্থান করেছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে যাকাতের কাপড় ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঈদ সেলামি দিয়েছেন।

দলটির উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ জানান, তিনি রমজান মাসে ছুটির দিনগুলোতে নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় গেছেন। সেখানে নেতাকর্মীদের খবরাখবর নেয়া, ঈদ উপহার দেয়া, যাকাতের কাপড় বিতরণ ছাড়াও ইফতার পার্টি করেছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তিনি গত এক সপ্তাহ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড-ইউনিয়নে যাকাতের কাপড়, ঈদ সামগ্রী বিতরণসহ যা যা করা দরকার করে এসেছেন।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তিনি গত এক সপ্তাহ এলাকায় অবস্থান করছেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে কুশল বিনিময় করছেন। ঈদ সামগ্রী বিতরণ করছেন। আওয়ামী লীগের এই নেতা ঈদ পর্যন্ত তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবেন, ঈদের পর ঢাকায় ফিরবেন।

একই কাজ করেছেন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে মিলিত হয়েছেন। এরই ফাঁকে ফাঁকে নেতাকর্মীদের ঈদ গিফট, গরিব ও দুস্থ মানুষদের ঈদ সামগ্রীসহ যাকাতের কাপড় দিয়েছেন।

একইভাবে আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমও চষে বেরিয়েছেন নিজ এলাকা। সম্পাদকমণ্ডলীর প্রায় সব সদস্যই নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রায় সব এমপি ও বিরোধী দলের এমপিরা একই কাজ করছেন।

এর বাইরেও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের নির্বাচনী এলাকায় এই ঈদ উৎসবে নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের খবরাখবর নিচ্ছেন। ঈদের হাওয়ায় ভোটের খবর জানছেন। বিভিন্ন এলাকায় একই দলের একাধিক প্রার্থীও এই ঈদে প্রচারণার সুযোগ নিচ্ছেন।

উৎসঃ jagonews24

Share Button