ক্ষমতার কাছে জনগণ গৌণ হয়ে পড়েছে: দুদক কমিশনার

জাতীয়
Share Button

দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন বলেছেন, “জনগণের আয়করের টাকায় আমাদের সংসার চলে সেই জনগণকে আমরা কতটুকু সেবা দিতে পেরেছি সেটাই মূখ্য ব্যাপার। সংবিধানে বলা হয়েছে জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। আজকে কিছুটা ক্ষমতা পেয়ে আমরাই হয়ে গেছি মূখ্য আর জনগণ হয়েছে গৌণ। কিন্তু তা নয়, জনগণই মূখ্য আর আমরা হলাম গৌণ।”

মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময়ে কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘এবার আওয়াজ তুলুন গণ শুনানি দুর্নীতি বিষয়ক ফলোআপ’ শীর্ষক এক গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুনানিতে সরকারী কমিশনার (ভূমি), কোতোয়ালি. সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সহকারী কমিশনার ( ভূমি) গুলশান অফিস অংশ অংশগ্রহণ করে।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর এই তিন অফিস নিয়ে রমনা ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিটিউটে দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

গণশুনানির সঞ্চলনা করেন দুদকের ঢাকা বিভাগের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। উদ্বোধন করেন দুদকের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম। গণশুনানিতে উপপস্থিত ছিলেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি শরীফুল আলম তানভীর, কতোয়ালীর সহকারী সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা আক্তার এবং গুলশানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান।

গণশুনানির শুরুতে অভিযোগ নিয়ে আসেন ওয়ারী থেকে প্রয়াত জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের ছোট ভাই কাজী মাসুদ আহমেদ। তিনি বলেন, কেএম দাস লেনের বাড়িটি সরকার আরেফ ফাউন্ডেশনে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ওই জমিটি এখন কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের নামে হয়নি। আমি আর এই জমিটি চাই না। আরেফ ফাউন্ডেশনের দরকার নেই। তবে সরকারী জমি সরকারের কাছে ফেরত যাক সেটাই চাই। ইতোমধ্যে চন্দ্রপুরীর পীর সাহেব ১০ ফুটের মতো জমি দখল করে নিয়েছেন। পেছনে রুপায়ন ডেভোলাপার কোম্পানি রয়েছে। তারা জমিটি দখল করতে পারে। তাই জমিটি সরকারের দখলে নেওয়ার অনুরোধ জানান কাজী মাসুদ আহমেদ।

এছাড়াও দোহার থেকে আবুল কাশেম, ফয়েজুর রহমান, আবুল বজল, শেখ রওশন আলী, সালাহউদ্দিন মেনন, এবং আইনজীবী এস.এম শামিম বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেন।

পরে দুদকের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সুবিধা অসুবিধা শুনেছি। তাদের অভিযোগ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে কাজে যোগদান করেছি।’

এরকম অজুহাতের সমালোচনা করেন ড. নাসির বলেন, ‘তাতে কী হয়েছে, কর্মকর্তা কর্মচারি বদলি হবে, অনত্র চলে যাবে। তাতে কী কাজ থেমে থাকবে?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি। বলেন, জনগণের আয়করের টাকায় আমাদের সংসার চলে। সেই জনগণকে আমরা কতটুকু সেবা দিতে পেরেছি সেটাই মূখ্য ব্যাপার।

এ সময় সৎ ও কর্মঠ একটি টিম নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবীর বলেন, এমন কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করতে পারলে দ্রুত অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

ঢাকাটাইমস

Share Button