‘চমৎকার নির্বাচন হয়েছে’

জাতীয়
Share Button

খুলনা সিটি করপোরেশনে চমৎকার নির্বাচন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন মনে করছে খুলনা সিটি করপোরেশনে চমৎকার নির্বাচন হয়েছে। সেখানকার ২৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ২৮৬টি কেন্দ্রে চমৎকার, সুন্দরভাবে, উৎসবের আমেজে ভোট হয়েছে।

বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, একটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করতেই পারে। ইসি তলিয়ে দেখেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

‘অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন তাদের ভোট দেওয়া হয়েছে’—এমন অভিযোগের বিষয়ে হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, এমন হতে পারে ওই ভোটার ওই কেন্দ্রের ভোটার নন, বা তার নাম ওই কেন্দ্রে নেই। তবে বিষয়টি তদন্তের পর বলা যাবে।

এই নির্বাচনের ফলে জাতীয় নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নে ইসি সচিব কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন।’

এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে জাল ভোটের প্রবণতা বাড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরানি বহুমুখী মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনেক জাল ভোট পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে স্থানীয় নৌকা–সমর্থিত প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ দলের এক সদস্যকে অপদস্থ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার খুলনা শহরে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে রূপসা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদক ওই কেন্দ্রে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাউকে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার নিয়ে আসতে দেখেননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টা বাজে তখন। ভোটাররা কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু ভোট দিতে পারছেন না। ব্যালট পেপার ফুরিয়ে গেছে জানিয়ে তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট বের করে দিয়ে একদল যুবক ওই কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ফেলেছেন।

ওই কেন্দ্রে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল যুবক কেন্দ্রে ঢুকে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টকে বের করে দেন। এরপর তারা ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সে ভরে দেন। দুপুর ১২টার দিকে ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে এলে তাদের বলা হয়, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। ব্যালট পেপার আনতে লোক পাঠানো হয়েছে।

ওই কেন্দ্রে মো. শরিফুল ইসলাম নামের একজন ভোটার বলেন, তিনি ভোট দিতে দুপুর ১২টায় কেন্দ্রে এসে জানতে পারেন, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। অপেক্ষা করতে হবে। এক ঘণ্টা পর বেলা একটার দিকে তিনি কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন তার ‘ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ইবনুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রে কিছু বহিরাগত এসে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। যে কারণে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। খুব শিগগির আবার ভোট নেওয়া শুরু হবে।’

এই প্রতিবেদক এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ব্যালট পেপার পৌঁছাতে দেখেননি। আবার ভোট শুরু হতে দেখেননি। কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের এজেন্টদের পাওয়া গেলেও ধানের শীষ প্রতীকের কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।

ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টের খোঁজ করলে নৌকা প্রতীকের এজেন্টরা বলেন, ‘এখানেই ছিলেন। এখন নাশতা খেতে গেছেন।’

জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৬৬৩ জন।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, অল্পসংখ্যক ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ফেলেছেন বহিরাগত যুবকেরা। ওই ভোটগুলো চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে।

আরটিএনএন

Share Button