তুরিনের সঙ্গে গোপন বৈঠকের তথ্য দিয়েছেন অভিযুক্ত ডিজি ওয়াহিদুল হক

এক্সক্লুসিভ
Share Button

যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হকই প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের সঙ্গে বৈঠকের তথ্য দিয়েছেন। এমনকি তুরিন আফরোজ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সব নথিপত্র ওয়াহিদুল হকের কাছে তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হক ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার হন। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান। গ্রেফতার করার সময় ওয়াহিদুল হকই প্রকাশ করেন তার সঙ্গে তুরিনের গোপন বৈঠক হয়েছে এবং দু’জনের মধ্যে পৌনে ৩ ঘণ্টার কথোপকথনের রেকর্ডও আছে তার কাছে। পরে তার মোবাইল জব্দ করে রেকর্ডটি কপি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। কথোপথনের অডিও সিডি করে ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাবুনালের একজন প্রসিকিউটর বলেন, এই অভিযোগটি লিখিতভাবে ট্রাইব্যুনাল থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সঙ্গে তুরিন ও আসামির মধ্যে কথোপকথনের সিডির কপিও সংযুক্ত করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, তুরিন আফরোজ আসামির কাছ থেকে কি ধরনের সুবিধা চেয়েছেন রেকর্ড শুনলে অবশ্যই তা বেরিয়ে আসবে।

ওই প্রসিকিউটর আরো বলেন, তুরিন আফরোজ আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গত বছরের ১৮ নভেম্বর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে গোপনে বৈঠক করেন। এর আগে তিনি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দেখা করতে চান। ফোনে তিনি বলেন, ওয়াহিদুল হক যে কোনো দিন আটক হতে পারে। রেস্টুরেন্টে বৈঠকের সময় তারা পৌনে তিন ঘণ্টা মামলার নথিপত্র নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ওয়াহিদুল হকের হাতে তিনি মামলার গোপন নথির কপি তুলে দেন। তখন ওয়াহিদুল হকের কাছে তুরিন আফরোজের সহকারী ফারাবী কয়েকটি প্রস্তাব দেন। জানতে চান তার টাকা পয়সা কেমন আছে।

উল্লেখ্য, আইন মন্ত্রণালয়ে এই অভিযোগ দায়েরের পর তুরিন আফরোজ গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি সবই ট্রাইবুনালের কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই করেছেন। বৈঠকের পক্ষে তিনি তার যুক্তিও স্পষ্ট করেন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ ব্যাপারে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বলেছেন, যুদ্ধপরাধ মামলার কোনো আসামির সঙ্গে প্রসিকিউটরের বৈঠকের সুযোগ নেই। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ যা করেছেন সেটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

তিনি আসামির সঙ্গে দেখা করে মামলার গোপন নথির ফটোকপি তাকে দিয়েছেন। সানাউল হক আরও বলেন, তুরিন আফরোজকে তদন্ত কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়নি। তদন্তের ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। আসামির সঙ্গে বসার তার কোনো সুযোগ নেই। তিনি প্রসিকিউটর, প্রয়োজনে আমরা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। তার কাজ ট্রাইব্যুনালে। এখন বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। সেখানে তদন্তের জন্য আদেশ করতে হবে। আইন মন্ত্রণালয়ই এখন সিদ্ধান্ত দেবে কি হবে এ বিষয়ে।

প্রসঙ্গত: প্রাথমিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ৭ মে তুরিন আফরোজকে প্রথমে ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে এবং পরের দিন ৮ মে অন্য সব মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। সেই সঙ্গে তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়ে তদন্ত চান। আইনমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি ২০ মে দেশে আসার পর সিদ্ধান্ত নেবেন।

শুনুন ওয়াহিদুল হক আর তুরিন আফরোজের সেই টেলিফোন কথোপকথন

উৎসঃ আমাদের সময়

Share Button